দিনাজপুর মধ্যপাড়া খনিতে এক মাস থেকে উত্তোলন কাজ বন্ধ
মাহিদুল ইসলাম রিপন দিনাজপুর প্রতিনিধি
ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুরিয়ে যাওয়ায় গত এক মাস যাবত বন্ধ রয়েছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম। গত ১৯ মে সকাল থেকে এই পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। খনি কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে চালু হওয়ার আশ্বাস দিলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। তারা বলছেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে জাহাজীকরণ পিছিয়ে গেছে এবং জাহাজ পেতে দেরি হয়েছে, সে কারণে পরিবহন করতেও সময় লাগছে।
জানাযায়, ভূগর্ভে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহ করার দায়িত্ব খনি কর্তৃপক্ষের। ক্ষণিক কর্তৃপক্ষ সময়মতো বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহ করতে না পারায় সংকটের কারণে ইতিপূর্বে ২০১৪, ২০১৫, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৫ সালে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। বিস্দ্রফোরক দ্রব্যের অভাবে ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে ২ মাস, ২০১৮ সালে ৭দিন ও বর্তমানে এক মাস ধরে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।
প্রসঙ্গতঃ, ২০০৭ সালের ২৫ মে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করে। প্রথম দফায় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খনির পাথর উত্তোলন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষের ছয় বছরের চুক্তি করা হয়।
দ্বিতীয় দফায় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে ৬ বছরের পুনঃ চুক্তি করে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (মধ্যপাড়া পাথর খনি) কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে ৩ পালায় পাথর উত্তোলনের কাজ করেন প্রায় ৮০০ শ্রমিক। এদিকে, খনির পাথর উত্তোলন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, পাথর উত্তোলন কাজ বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালু রয়েছে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, যেহেতু এটি একটি বিশেষ সংবেদনশীল পণ্য তাই পানি পথে আনতে হয়। বৈশ্বিক সংকটের কারণে জাহাজীকরণ পিছিয়ে যাওয়ায় জাহাজ পেতে দেরি হয়েছে, সে কারণে পরিবহন করতেও সময় লাগছে। জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পথে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে যাবে। আশা করা যায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের দিকে খনির উত্তোলন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, মোট ৩০০ মেট্রিক টনের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৮৮ মেট্রিক টন আসবে। তা দিয়ে ২ থেকে আড়াই মাস চলবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে বাকিগুলো আসবে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে এই দ্রব্যটি আগে থেকে বেশিদিন মজুদ রাখা যায় না।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। সেই সাথে পাথর বিক্রি কার্যক্রম চলছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী সাইজ না থাকায় বিক্রি কিছুটা কম।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?
হ্যাঁ
না
মন্তব্য নেই
0%
0%
0%
Popular Posts
Archive
Please select a date!
Submit

